২০২৩ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গ্রেফতারের জেরে সহিংস বিক্ষোভে উসকানি দেয়ার দায়ে একাধিক সাংবাদিক ও সামাজিকমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে জোড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ইসলামাবাদে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের বিচারক তাহির আব্বাস সিপরা বিচার শেষে এই রায় দেন।
আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ইউটিউবার আদিল রাজা ও সৈয়দ আকবর হুসেইন, সাংবাদিক ওয়াজহাত সাইদ খান, সাবির শাকির ও শাহিন শেহবাই, ভাষ্যকার হায়দার রেজা মাহদী এবং বিশ্লেষক মঈদ পিরজাদা।
রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্তদের কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। গ্রেফতার এড়াতে তারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা যায়।
এই মামলাগুলোর সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের মে মাসে। সেসময় দুর্নীতির একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয় ইমরান খানকে। এর প্রতিবাদে তার সমর্থকদের একাংশ সামরিক স্থাপনা ও সরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালায়।এই ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী ইমরান খানের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সামরিক আদালতের মাধ্যমে শত শত মানুষকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও উসকানির অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
সাংবাদিকদের সুরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে) ২০২৩ সালে এক বিবৃতিতে বলে, এসব তদন্ত মূলত সমালোচনামূক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ।সিপিজের এশিয়া কর্মসূচির সমন্বয়কারী বেহ লিহ ই বলেন, ‘কতৃপক্ষকে অবিলম্বে এসব তদন্ত প্রত্যাহার করতে হবে এবং গণমাধ্যমের ওপর চলমান ভয়ভীতি ও সেন্সরশিপ বন্ধ করতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এসোসিয়েটেড প্রেসকে দণ্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিক সাবির শাকির বলেন, তিনি তার সাজা সম্পর্কে অবগত আছেন।
তিনি আরও বলেন, ’পুলিশের অভিযোগের সময় তিনি দেশেই ছিলেন না এবং কখনোই জনতাকে সহিংসতায় উসকানি দেননি।’ তার বিরুদ্ধে দেয়া এই রায় সম্পূর্ণরুপে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে মনে করেন তিনি।
শুক্রবারের এই রায় অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তরা সাত দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন। একইসাথে তারা দেশে ফিরলে তাদেরকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
