শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ

আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ

আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ


 

 

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলাকে কেন্দ্রস্থল করে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। 

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। 

 

রিখটার স্কেলে কম্পনটির মাত্রা ছিল ৪.১। হঠাৎ এই কম্পনে কর্মব্যস্ত মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি।

 

আন্তর্জাতিক সিসমোলজিক্যাল সংস্থা ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মূলত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চল। অন্যদিকে ‘মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ অ্যাপের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে ১৮১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছাতক ছিল এই কম্পনের মূল কেন্দ্র। 

 

এবারের ভূমিকম্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর গভীরতা। সাধারণত বাংলাদেশে অনুভূত ভূমিকম্পগুলো অগভীর হলেও এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়েছে, যা ভূ-তাত্ত্বিকভাবে বেশ বিরল ও গভীর হিসেবে বিবেচিত।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল অনেক গভীরে হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে কম্পনের তীব্রতা ততটা শক্তিশালী ছিল না, যার ফলে বড় ধরনের কোনো স্থাপনা ধসে পড়ার ঝুঁকি কম ছিল। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় উৎপত্তিস্থল হওয়ায় ছাতক, সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের মানুষ তুলনামূলক বেশি কম্পন অনুভব করেছেন। 

ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরপরই রাজধানীর বহুতল ভবনগুলো থেকে অনেককে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত আতঙ্কের খবর ছড়িয়ে পড়ে। আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বড় কোনো পরবর্তী কম্পন বা ‘আফটারশকের’ আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখছেন।

সিলেট ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলটি দীর্ঘকাল ধরেই বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ জোনে অবস্থান করছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন। আজকের এই মাঝারি মাত্রার কম্পনটি সেই প্রাকৃতিক ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। 

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা মাঠ পর্যায়ে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর আছে কি না তা যাচাই করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে ভূমিকম্পের সময় করণীয় পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া ।