এক সময়ের টেলিভিশন দুনিয়ার উজ্জ্বল তারকা, মঞ্চ ও সিনেমার জনপ্রিয় মুখ—গুণী অভিনেতা লিটু আনাম আজ ১৫ জুন তাঁর জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণীয়।
ছোটবেলাতেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক দেখা দেয় এই প্রতিভাবান শিল্পীর। ঠাকুরগাঁওয়ের স্কুল জীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ নাটকে অভিনয় করে প্রথম পুরস্কার অর্জন করেন। নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন একটি থিয়েটার দল। এরপর ১৯৮৯ সালে যোগ দেন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী "ঢাকা থিয়েটার"-এ। ১৯৯১ সালে হুমায়ুন ফরীদির নির্দেশনায় মঞ্চ নাটক ‘ভূত’-এ অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকের নজর কাড়েন।
মজার তথ্য হচ্ছে, লিটু আনামের অভিনয়যাত্রা শুরু হয় বড় পর্দা দিয়ে—১৯৯৩ সালে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা "একাত্তরের যীশু"-তে ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ১৯৯৮ সালে মোহন খানের পরিচালনায় জনপ্রিয় টিভি নাটক ‘দূরে কোথাও’ দিয়ে তার ছোটপর্দায় অভিষেক, যেখানে তার বিপরীতে ছিলেন শমী কায়সার।
এরপর লিটু আনামের টেলিভিশন যাত্রা ইতিহাস। বিটিভির সেই গৌরবময় যুগে আমরা দেখেছি—স্বপ্ন, মেঘদূত, লালঘুড়ি, খড়ের পুতুল, দুর্ঘট-এর মতো নাটকে তার দুর্দান্ত উপস্থিতি।
এছাড়া টেলিফিল্ম ও একক নাটকে—‘স্বপ্ন’, ‘তিনি একজন’, ‘বনফুল’, ‘আপদ’, ‘কানামাছি’, ‘বিবর’ ইত্যাদিতে অসাধারণ অভিনয় করেছেন।
ধারাবাহিকে ‘সম্পূর্ণ রঙ্গিন’, ‘শেঁওলা’, ‘আমাদের আনন্দ বাড়ি’, ‘সেই সব দিনগুলো’, ‘১৯৭১’, ‘মুখোশ’, ‘জাল ও খড়ের পুতুল’—নাট্যপ্রেমীদের কাছে তাকে করে তোলে ঘরের মানুষ।
সিনেমায়ও লিটু আনাম রেখে গেছেন অনন্য প্রতিচ্ছবি।
২০০৩ সালে অভিনয় করেন কলকাতার ছবি “চোর ও ভগবান”-এ চিরঞ্জিত ও শতাব্দীর সঙ্গে। একই বছরে সাইদুল আনাম টুটুল পরিচালিত তেভাগা আন্দোলনভিত্তিক জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি “আধিয়ার”-এ অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান।
তবে তিনি শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রেখে গেছেন “নন্দিত নরকে” সিনেমার মন্টু চরিত্রে। বেলাল আহমেদের পরিচালনায়, হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই চলচ্চিত্রে তার অভিনয় এককথায় অনবদ্য—জাতীয় পুরস্কারযোগ্য।
এছাড়াও আবু সাইয়িদের ‘নিরন্তর’-এ তার অভিনয় স্মরণীয় হয়ে আছে।
ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খ্যাতিমান নাট্যজন ইনামুল হক ও লাকি ইনামের কন্যা, নাট্যকার ও নির্মাতা হৃদি হক-এর সঙ্গে। তাদের সংসারে রয়েছে যমজ সন্তান—টিং ও হিং।
আজ এই গুণী শিল্পীর জন্মদিনে জানাই এন্টার টিভি পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা।
বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রে আপনার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।