পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুর শহরের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর শাস্তির দাবিতে সোমবার (১৫ জুন) বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের কাছে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া করিমুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী গত ২২ মে কোচিং শেষে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে।
পরে ছাত্রীর বাবা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার নামে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ছাত্রীর বাবা বলেন, “আমি একজন অভিভাবক হিসেবে ন্যায়বিচার চাই। আমার মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।”
এদিকে অভিযোগের প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
