সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ বলিউডের মেলোডি কুইন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুরাইয়া জামাল শেখের শুভ কামনা

আজ বলিউডের মেলোডি কুইন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুরাইয়া জামাল শেখের শুভ কামনা

আজ বলিউডের মেলোডি কুইন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুরাইয়া জামাল শেখের শুভ কামনা

আজ বলিউডের মেলোডি কুইন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুরাইয়া জামাল শেখের শুভ কামনা


'অতি বড় সুন্দরীর না জোটে বর, অতি বড় ঘরণী না পায় ঘর' এই বাংলা প্রবাদ যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায় বলিউডের স্বপ্নসুন্দরী সুরাইয়ার (Suraiya) সঙ্গে। তিনি রূপমাধুরীতে মধুবালা বা সুচিত্রা সেনের থেকে কোনও অংশে কম ছিলেন না।

১৯২৯ সালের ১৫ জুন লাহোরের গুজরানওয়ালাতে জন্মগ্রহণ করেন ফুটফুটে সুরাইয়া। পুরো নাম সুরাইয়া জামাল শেখ। বাবা আজিজ জামাল শেখ এবং মা মমতাজ শেখ। সুরাইয়ার যখন এক বছর বয়স, তখন তাঁর পরিবার বম্বের মেরিন ড্রাইভের কৃষ্ণ মহলে থাকতে চলে আসেন। শৈশবে অল ইন্ডিয়া রেডিও বম্বেতে গানের আসরে যোগ দেন স্কুলবালিকা সুরাইয়া। রেডিওতেই তাঁর বন্ধু ছিলেন শিশুশিল্পী রাজ কাপুর ও মদনমোহন।


পরবর্তীকালে রাজ কাপুর তাঁর হিরো হন আর মদনমোহন সুরাইয়ার ছবিতে সংগীত পরিচালক হন। শিশুশিল্পী সুরাইয়া আত্মপ্রকাশ করেছিলেন 'ম্যাডাম ফ্যাশন' ছায়াছবিতে, ১৯৩৬ সালে। মিস সুরাইয়া নাম ছিল তখন তাঁর। প্লেব্যাকেও খুব ছোট বয়সেই সুযোগ পান তিনি। এরপর নায়িকার ভূমিকায় আসেন সুরাইয়া। ১৯৩৬ থেকে ১৯৬৩ সালের মধ্যে সুরাইয়া ৬৭টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন এবং ৩৩৮টি গান গেয়েছিলেন।
১৯৪০ এবং ১৯৫০-এর দশকে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের অধিকারিণী ছিলেন অভিনেত্রী সুরাইয়া। সৌন্দর্য ও মিষ্টি গায়কীর কারণে তিনি মালিকা-ই-হুসন (বিউটি কুইন), মালিকা-ই-তারান্নুম (মেলোডি কুইন) এবং মালিকা-ই-আদাকারি (অভিনয়ের রানি) নামে খ্যাত হয়েছিলেন। সুরাইয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত ছবি 'মির্জা গালিব' (১৯৫৪)। যে ছবিটি প্রেসিডেন্ট পুরস্কারে সোনা ও রুপোর মেডেল পেয়েছিল। সুরাইয়া গজল গেয়ে ও অভিনয়ে তাক লাগিয়ে দেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে দেখানো হয় ছবিটি।

 

সুরাইয়াকে এই উপমহাদেশের প্রথম মেলোডি কুইন বা সুরের রানি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে তাঁকে নূরজাহান নামেও ডাকা হতো। 
ভারতীয় সিনেমার অন্যতম রোম্যান্টিক নায়কের সঙ্গে সুরাইয়ার সম্পর্ক তৈরি হয়। অগণিত নারীহৃদয়ে দোলা জাগানো দেব আনন্দের মনে প্রথম যিনি দাগ কাটেন, তিনি সুরাইয়া। বলিউডের প্রেম পর্বের বিয়োগান্তক কাহিনির মধ্যে অন্যতম ছিল দেব আনন্দ-সুরাইয়ার প্রেমকাহিনি। 
সুরাইয়া তখন মধ্যগগনে। চল্লিশের দশকের শেষের দিকে দেব আনন্দ সবে পা দিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। নায়িকা-গায়িকা সুরাইয়ার সঙ্গে কাজের সুযোগ মিলল তাঁর। তাঁকে দেখেই ভাল লেগেছিল দেবের। কোনও তারকা সুলভ অ্যাটিটিউড নেই, যেন সাধারণ মাটির মানুষ।


কাজের সুযোগ এল ১৯৪৮ সালে। মুক্তি পায় দেব আনন্দ-সুরাইয়ার ছবি 'বিদ্যা'।শোনা যায়, এই ছবির গান 'কিনারে কিনারে চলে যায়েঙ্গে'র শুটিংয়ের সময়ে নৌকা উল্টে যায়। প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও জলে ঝাঁপিয়ে সুরাইয়াকে বাঁচিয়ে তোলেন দেব আনন্দ।

পরে এক স্মৃতিকথায় সুরাইয়া জানান, এই ঘটনার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে দেব আনন্দের সম্পর্কের গভীরতা শুরু হয়। গভীর প্রেমে হাবুডুবু খেতে খেতে একবার পালানোরও চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ব্যর্থ হন। সেটা ১৯৪৯ সাল। দেবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দুবছর গোপনে রাখার চেষ্টা করেছিলেন সুরাইয়া। যতবারই সম্পর্কের বাঁধনে যুক্ত হতে চেয়েছেন, ধর্মের কারণে তা হতে পারেনি সুরাইয়ার বাড়ির অমতে।


দেব আনন্দের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পরে সুরাইয়াও সিনেমায় অভিনয় কমিয়ে দেন। ১৯৬৩ সালে তাঁর শেষ ছবি 'রুস্তম সোহরাব' মুক্তি পায়। এরপর আর কোনও ছবিতে অভিনয় করেন নি সুরাইয়া। দেব আনন্দ বিয়ে করলেও, সুরাইয়া বাকি জীবনটা একাই কাটিয়ে দেন। জীবনের চার বছরের প্রেমের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি অবলম্বন করেই কাটিয়ে দেন জীবন। দেব আনন্দর সঙ্গে ভালবাসা হল, ভাসা হল না সুরাইয়ার! চিরকুমারী রয়ে গেলেন স্বপ্নসুন্দরী।


শাহরুখ-গৌরী কিংবা সাইফ আলি খান-কারিনা কাপুরের মতো ভাগ্য সহায় হয়নি দেব আনন্দ-সুরাইয়ার। দুই ভিন্ন ধর্মের মানুষ হওয়ায় তাদের জীবন নদী মিলতে পারেনি সুখের মোহনায়। হিন্দি সিনেমার স্বর্ণ যুগের এই দুই তারকার প্রেমকাহিনি হার মানায় সিনেমাকেও।
সুরাইয়া ২০০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি ৭৪ বছর বয়সে ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যু পূর্ব পর্যন্ত তিনি মুম্বাই-এর মেরিন ড্রাইভে তার এপার্টমেন্ট কৃষ্ণ মহলে বসবাস করছিলেন।
জন্মদিনে স্মরণ করি এন্টার টিভি পরিবার স্বনামধন্যা অভিনেত্রী ও গায়িকাকে।