সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সংরক্ষণাগার না থাকায় নষ্ট হচ্ছে ফল

সংরক্ষণাগার না থাকায় নষ্ট হচ্ছে ফল

সংরক্ষণাগার না থাকায় নষ্ট হচ্ছে ফল

শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধি: জাতীয় ফল কাঁঠালের জন্য দেশের অন্যতম পরিচিত অঞ্চল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা। মৌসুম এলেই উপজেলার জৈনা বাজার পরিণত হয় কাঁঠালের বৃহৎ পাইকারি হাটে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বাজার। সারি সারি কাঁঠাল, দরদাম আর ট্রাকভর্তি ফল পরিবহনের ব্যস্ততায় জমে ওঠে কোটি টাকার এই মৌসুমি বাণিজ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসংলগ্ন জৈনা বাজারের দুই পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে শত শত কাঁঠাল। কোথাও চলছে বাছাই, কোথাও দাম নির্ধারণ, আবার কোথাও ট্রাক ও পিকআপে তোলা হচ্ছে ফল। কাঁঠালের মিষ্টি সুবাসে মুখর পুরো বাজার এলাকা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। গাছে গাছে বড় আকারের কাঁঠাল ধরেছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি কৃষকের লাভ।
মাওনা গ্রামের কাঁঠালচাষি রফিকুল ইসলাম  বলেন, “এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে এসে সবসময় প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যায় না। উৎপাদনের পরও লাভের বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে।”
একই অভিযোগ মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক আল আমিনেরও। তিনি বলেন, “পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমে যাচ্ছে। বাজারে এসে অনেক সময় বাধ্য হয়ে কম দামে কাঁঠাল বিক্রি করতে হয়। কৃষকদের সরাসরি বিক্রির সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।”
শুধু স্থানীয় বাজার নয়, শ্রীপুরের কাঁঠালের কদর রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। সিলেট থেকে আসা পাইকার সুলতান আহমদ বলেন, “শ্রীপুরের কাঁঠাল আকারে বড় এবং স্বাদেও ভালো। তাই প্রতি বছর এখানে এসে কাঁঠাল কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করি।”
ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেন বলেন, “চাহিদা ভালো থাকলেও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত বিক্রি করতে হয়। পরিবহন খরচও অনেক বেড়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি বাড়ছে।”
স্থানীয়দের মতে, কাঁঠালের মৌসুমকে ঘিরে জৈনা বাজারে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, আড়তদার, ভ্যানচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ এ মৌসুমের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তবে আধুনিক সংরক্ষণাগার ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পের অভাবে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাঁঠাল নষ্ট হয়ে যায়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. বিজন মালাকার বলেন, “কাঁঠাল অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটি ফল। এতে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, পটাশিয়াম ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কাঁঠাল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।”
কৃষি বিভাগ বলছে, শ্রীপুরের কাঁঠালকে ঘিরে রয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, “কাঁঠাল এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজার সংযোগ উন্নয়নে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, কাঁঠালভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং রপ্তানিমুখী উদ্যোগ গড়ে তোলা গেলে শ্রীপুরের কাঁঠাল দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারে। একই সঙ্গে কৃষকরাও পাবেন তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য।
স্থানীয়দের ভাষায়, জৈনা বাজার শুধু একটি কাঁঠালের হাট নয়; এটি শ্রীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জীবিকার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাণকেন্দ্র। মৌসুমজুড়ে এখানকার কাঁঠালের বাণিজ্যই হয়ে ওঠে হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান ভরসা।