মোঃ কামরুল ইসলাম প্রতিনিধি
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার খামারপাড়া বিশ্বলতা জনকল্যাণ বৌদ্ধ বিহারে ৩৬তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, প্রদীপ প্রজ্বালন ও ফানুস উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার ২নং নানিয়ারচর ইউনিয়নের খামারপাড়া বিশ্বলতা জনকল্যাণ বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বিহারের সভাপতি জ্ঞানপ্রিয় চাকমা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিহারের সাধারণ সম্পাদক মনি চাকমা।অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিশ্বশান্তি ও সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় সূত্রপাঠ, বুদ্ধপূজা, ত্রিরত্নের বন্দনা এবং ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে কঠিন চীবর দান, বেইন ঘরের উদ্বোধন, কল্পতরু মঞ্চের অলংকরণ, অতিথি বরণ ও ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অতিথিরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন ও ফানুস উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আরও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানে নানিয়ারচর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি-এর দিকনির্দেশনায় সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার শহিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি বিহারের সভাপতি জ্ঞানপ্রিয় চাকমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নানিয়ারচর জোনের পক্ষ থেকে আয়োজকদের উপহারস্বরূপ ফল প্রদান করা হয়। সেনাবাহিনীর এ সহযোগিতায় আয়োজক ও উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা এবং সৌহার্দ্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এ সময় কুতুকছড়ি ত্রিবাংকুর বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি শ্রীমং ধর্মজ্যোতি চাকমা, বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিপেন চাকমা, সাধারণ সম্পাদক নব জ্যোতি চাকমা, ২নং নানিয়ারচর ইউনিয়নের সদস্য পরেশ চাকমাসহ বিহার পরিচালনা কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে উদযাপনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছে। এ ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন সুদৃঢ় করার পাশাপাশি পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
