চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকায় ভোররাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বাস ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলে অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন কম পক্ষে ২৫ জন যাত্রী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে কেরানীহাট সংলগ্ন মহাসড়কের নবনির্মিত রেললাইনের রেলক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—কুমিল্লার বিড়ির চং এলাকার বাসিন্দা সোহানা (৪৫) ও ইসরাফিল (৫৫)।
স্থানীয়দের বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে একটি মাদ্রাসা শিক্ষাসফর বা বিশেষ কর্মসূচির শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাসটি গন্তব্যে যাচ্ছিল। বাসটি কেরানীহাটের নবনির্মিত রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,ভোররাতে কক্সবাজার মুখি ছিল চারদিকের নিস্তব্ধতার মধ্যে হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পাই। দৌড়ে গিয়ে দেখি দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা বাঁ বাঁচাও বলে চিৎকার করছেন। আমরা দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের বের করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার বলেন,ভোররাতে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ও আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালসহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, পুলিশ বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে অবস্থান নিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছে এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
