সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় নতুন মোড়

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় নতুন মোড়

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় নতুন মোড়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যে ঐতিহাসিক সমঝোতা অর্জিত হয়েছে, তার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে এবং এর আয়োজক বা হোস্ট হিসেবে থাকবে পাকিস্তান।সোমবার (১৫ জুন) পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই ঘোষণা দেন।  রোববার (১৪ জুন) মধ্যরাতের পর দুই দেশের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানানোর পর, আজ তিনি সংসদে এই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) জেনেভায় এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং আল্লাহর রহমতে পাকিস্তান এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি যৌথ রূপরেখায় সম্মত হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরানে হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। পুরো সংঘাত জুড়ে পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবং গত এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে প্রথম দফা প্রত্যক্ষ আলোচনার আয়োজনও করেছিল। সেই আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও আলোচনা ভেস্তে যায়নি। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা অবশেষে এই স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ নিয়েছে।জাতীয় পরিষদে শাহবাজ শরিফ বলেন, আজ বিশ্ব শান্তির এক ঐতিহাসিক মাইলফলক প্রত্যক্ষ করছে। দীর্ঘ ৩ মাস ১৬ দিনের অক্লান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর একটি নতুন ভোরের উদয় হয়েছে, যেখানে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা এসেছে। এই সাফল্যকে দুটি দেশের মধ্যকার সাধারণ কোনো চুক্তি নয়, বরং শান্তি, সংলাপ ও কূটনীতির এক বিশাল বিজয় হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। 

কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ধৈর্য ও বিচক্ষণতা দেখানোর জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি এই শান্তি প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, এই ঐতিহাসিক অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে পাকিস্তানের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সেনাপ্রধান যুদ্ধের আগুন নেভাতে এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করেছেন। আলোচনার এমন অনেক মুহূর্ত এসেছিল যখন মনে হয়েছিল সবকিছু থমকে যাবে, কিন্তু ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির হাল ছাড়েননি। এছাড়া উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির অবদানের কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও সংসদে বক্তব্য দেন এবং এই চুক্তি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের প্রজ্ঞার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রাওয়ালপিন্ডি (সেনাবাহিনী) ও ইসলামাবাদের (সরকার) মধ্যে গত ৭৫ বছর ধরে যদি এমন চমৎকার সমন্বয় থাকত, তবে পাকিস্তান আরও অনেক মাইলফলক অর্জন করতে পারত। 

তিনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই ঐক্য বজায় থাকলে ফিলিস্তিন ও গাজার মানুষও খুব দ্রুতই ন্যায়বিচার পাবে। এদিকে বিরোধী দল পিটিআই-এর নেতা সরদার লতিফ খোসাও সংসদে উপস্থিত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদ্দামকে ধন্যবাদ জানান। তবে শুক্রবার চূড়ান্ত স্বাক্ষর হওয়ার আগ পর্যন্ত সময়টুকুকে অত্যন্ত সংবেদনশীল আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে।