শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে ছয় লাখ টাকার ঋণের কথা বলে ২০ লাখ টাকার ঋণে জামিনদার হিসেবে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল ফরাজীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জামিনদার হিসেবে দেওয়া স্বাক্ষর প্রত্যাহার এবং ঋণের আবেদন থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার জন্য সোনালী ব্যাংকের শ্রীপুর থানা হেডকোয়ার্টার শাখায় লিখিত আবেদন করেছেন তাঁর অধীনস্থ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আনোয়ার হোসেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ঋণের পরিমাণ আগেই জানানো হয়েছিল এবং আনোয়ার স্বেচ্ছায় জামিনদার হতে রাজি হয়েছিলেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঋণটি এখনো অনুমোদন হয়নি।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক বরাবর দেওয়া আবেদনে জামিনদার হিসেবে নিজের স্বাক্ষর প্রত্যাহার এবং ঋণের আবেদন থেকে নাম বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান আনোয়ার হোসেন।
আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, সম্প্রতি নিজের বেতন-ভাতার বিপরীতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ নেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল ফরাজী। এ সময় তাঁকে ছয় লাখ টাকার ঋণের কথা বলা হয়। প্রথমে জামিনদার হতে রাজি না হলেও কর্মস্থলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং চাকরিসংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি সম্মতি দেন।
আনোয়ারের ভাষ্য, জামিনদারের ফরমে ঋণের পরিমাণ উল্লেখ না থাকায় তিনি স্বাক্ষর করেন। পরে দ্বিতীয়বার স্বাক্ষর করতে গিয়ে ২০ লাখ টাকা ঋণের বিষয়টি দেখতে পান। এতে তাঁর সন্দেহ হয়। রাতে স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পরিবারের পরামর্শে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং লিখিতভাবে আপত্তি জানান।
আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমি প্রথমে জামিনদার হতে চাইনি। তিনি আমার অফিসের প্রধান হওয়ায় চাকরির প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার কথা ভেবে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু ছয় লাখ টাকার কথা বলে ২০ লাখ টাকার ঋণে জামিনদার করার বিষয়টি জানার পর আপত্তি জানিয়েছি। আমি চাই, ঋণের জামিনদার হিসেবে আমার নাম বাদ দেওয়া হোক।”
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল ফরাজী বলেন, তিনি নিজের বেতন-ভাতার বিপরীতে ২০ লাখ টাকা ঋণের আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, ঋণের বিষয়ে আনোয়ার হোসেনকে আগেই জানানো হয়েছিল এবং তিনি নিজেই জামিনদার হতে সম্মতি দিয়েছিলেন।
আব্দুল আউয়াল ফরাজীর ভাষ্য, আনোয়ারকে ছয় লাখ টাকা ঋণের কথা বলা হয়নি। বরং তাঁর মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ বাবদ ছয় লাখ টাকা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন। আনোয়ার হোসেন কেন পরে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন, তা তাঁর বোধগম্য নয়। একই সঙ্গে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও নাকচ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের শ্রীপুর থানা হেডকোয়ার্টার শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ঋণ এখনো অনুমোদন হয়নি। জামিনদার আপত্তি জানিয়ে আবেদন করায় তাঁর নাম বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ইসলাম ভূঞার সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
ছয় লাখের কথা বলে ২০ লাখের ঋণে জামিনদার করার অভিযোগ
শ্রীপুরে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, অস্বীকার অভিযুক্তের
