রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের পরিচিত এবং প্রতিভাবান অভিনেত্রী পার্ণো মিত্র-এর শুভ জন্মদিন

আজ বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের পরিচিত এবং প্রতিভাবান অভিনেত্রী পার্ণো মিত্র-এর শুভ জন্মদিন

আজ বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের পরিচিত এবং প্রতিভাবান অভিনেত্রী পার্ণো মিত্র-এর শুভ জন্মদিন

 

সাবলীল অভিনয়, চরিত্র নির্বাচনে বৈচিত্র্য এবং পর্দায় স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি বাংলা বিনোদন জগতে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছেন। বাণিজ্যিক ও বিকল্পধারার চলচ্চিত্র—উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর অভিনয়ের উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিং, চলচ্চিত্র প্রযোজনা এবং রাজনৈতিক জীবনেও রয়েছে তাঁর বিচরণ।


পার্ণো মিত্রের জন্মদিন ৩১ অক্টোবর। তাঁর জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গ বলে বিভিন্ন জীবনীসূত্রে উল্লেখ রয়েছে। তবে জন্মস্থান নিয়ে সূত্রভেদে শিলিগুড়ি ও কলকাতার উল্লেখ পাওয়া যায়। জন্মসাল নিয়েও বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে মতভেদ রয়েছে।
তাঁর বাবা কর্মসূত্রে অরুণাচল প্রদেশে থাকতেন। সেই সুবাদে পার্ণোর শৈশবের একটি উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে অরুণাচল প্রদেশের পাহাড়, প্রকৃতি ও মনোরম পরিবেশের মধ্যে।


শৈশবের এই পাহাড়ি জীবন তাঁর বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছিল। পরবর্তীকালে পড়াশোনার জন্য তিনি দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াংয়ে চলে আসেন।


পার্ণো মিত্র কার্শিয়াংয়ের ঐতিহ্যবাহী ডাও হিল স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীকালে কলকাতার প্র্যাট মেমোরিয়াল স্কুলেও পড়াশোনা করেন।
তাঁর শিক্ষাজীবনের সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অভিনয়জীবনে প্রবেশের আগে থেকেই মডেলিং ও সাংস্কৃতিক জগতের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।


অভিনয়জীবনের সূচনা
পার্ণো মিত্রের অভিনয়জীবনের সূচনা ছোটপর্দার মাধ্যমে। ২০০৭ সালে রবি ওঝা পরিচালিত জনপ্রিয় বাংলা টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘খেলা’-য় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের নজরে আসেন।
এরপর ‘মোহনা’ ধারাবাহিকে নামভূমিকায় অভিনয় করে আরও পরিচিতি অর্জন করেন। টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর অভিনয় দক্ষতা এবং স্বাভাবিক অভিব্যক্তি তাঁকে বাংলা বিনোদন জগতে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে।


বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ ও সাফল্য
২০১১ সালে পরিচালক অঞ্জন দত্তের ‘রঞ্জনা আমি আর আসবো না’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। ছবিতে রঞ্জনা চরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষ প্রশংসা অর্জন করে।
চলচ্চিত্রটি একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে এবং বাংলা সিনেমার দর্শকদের মধ্যে বিশেষ পরিচিতি পায়। এই ছবির সাফল্য পার্ণো মিত্রের চলচ্চিত্রজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এরপর একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অভিনয়প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।

 

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র
পার্ণো মিত্র অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—
১. রঞ্জনা আমি আর আসবো না (২০১১)
২. বেডরুম (২০১২)
৩. মাছ মিষ্টি মোর (২০১৩)
৪. আমি আর আমার গার্লফ্রেন্ডস (২০১৩)
৫. অপুর পাঁচালী (২০১৩)
৬. দত্ত ভার্সেস দত্ত (২০১২)
৭. গ্ল্যামার (২০১৪)
৮. রাজকাহিনী (২০১৫)
৯. সাহেব বিবি গোলাম (২০১৬)
১০. ডুব (No Bed of Roses) (২০১৭)
১১. আহারে মন (২০১৮)
১২. আলিনগরের গোলকধাঁধা (২০১৮)
১৩. ধর্মযুদ্ধ (২০২২)

 

বিশেষ করে সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘রাজকাহিনী’ এবং মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘ডুব’ তাঁর অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য কাজ।
‘ডুব’ চলচ্চিত্রে ইরফান খানের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিনেতার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাঁর কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।


টেলিভিশন ও অন্যান্য কাজ
বড় পর্দার পাশাপাশি ছোটপর্দাতেও তিনি অভিনয় করেছেন। ‘খেলা’ ও ‘মোহনা’ ছাড়াও বিভিন্ন টেলিভিশন প্রযোজনায় তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের কাছে তাঁকে পরিচিত করে তুলেছে।
চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে বদলে নেওয়ার ক্ষমতা এবং অভিনয়ে স্বাভাবিকতা তাঁর কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।


অভিনয় থেকে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় নতুন যাত্রা
২০২৬ সালে পার্ণো মিত্রের কর্মজীবনে যুক্ত হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনার জগতেও প্রবেশ করেছেন।
নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘Unscripted Co’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি নতুন ধরনের গল্প ও চলচ্চিত্র নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছেন।

 

।২০২৬ সালের মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে অনুষ্ঠিত Marché du Film-এ ‘Spirit of the Wildflower’ প্রামাণ্যচিত্রের নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে তাঁর নতুন পরিচয় সামনে আসে।
এই প্রামাণ্যচিত্রে মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী সমাজ, জীবনসংগ্রাম, পরিচয় ও সামাজিক বাস্তবতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।


পরবর্তীকালে রাইমা সেন অভিনীত ‘The Music Teacher’ নামের একটি ব্রিটিশ-ভারতীয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে তাঁর নতুন যাত্রা শুরু হয়। ছবিটি পরিচালনা করছেন শ্রিময়ী চক্রবর্তী। কলকাতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবিতে রবীন্দ্রসংগীত ও সংগীতের মানবিক শক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক হয়ে ওঠার এই উদ্যোগ তাঁর সৃজনশীল জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।


রাজনৈতিক জীবন
অভিনয়ের পাশাপাশি পার্ণো মিত্র রাজনীতিতেও যুক্ত হয়েছিলেন।
২০১৯ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দেন। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বরানগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি।
পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগদান করেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।


একজন শিল্পীর বহুমাত্রিক পরিচয়
পার্ণো মিত্রের কর্মজীবন শুধু অভিনেত্রী পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। টেলিভিশন থেকে চলচ্চিত্র, অভিনয় থেকে প্রযোজনা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।
বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে তিনি পরিচিত এক মুখ। আগামী দিনে অভিনয় ও প্রযোজনা—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর কাছ থেকে আরও ভালো কাজ প্রত্যাশা করা যায়।


৩১ অক্টোবর জন্মদিনে অভিনেত্রী পার্ণো মিত্রের প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তাঁর আগামী দিনের জীবন আরও সুন্দর, সৃজনশীল ও সাফল্যমণ্ডিত হয়ে উঠুক। নতুন নতুন চরিত্র ও ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করুন—এই কামনা করি।

 

 

বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা