বেলজিয়ামের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসার নাম জেরেমি ডকু। ম্যানচেস্টার সিটির এই লেফট উইঙ্গারের জায়গা পূরণ করার মতো ফুটবলার নেই বেলজিয়াম ক্যাম্পে। বিষয়টি জেনেও জুলাইয়ের মাঝামাঝি দেশে ফিরে যাওয়ার আবদার জানিয়ে রেখেছেন তিনি।
ডকুর দেশে ফিরতে চাওয়ার কারণও অবশ্য যৌক্তিক। তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। পৃথিবীতে প্রথম সন্তানকে স্বাগত জানাতে যাচ্ছেন তারা। বিশেষ ওই মুহূর্তে স্ত্রীর পাশে থাকতে চান ডকু। কিন্তু বেলজিয়াম বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সাফল্য পেলে তখন টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল চলবে।
বেলজিয়াম কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারলে এবং ডকু না থাকলে দলের জন্য তা বড় ধাক্কা হবে। যে কারণে ডকুর ছুটি চাওয়ার পক্ষে-বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা হচ্ছে। কেউ বলছেন- সন্তান জন্ম দানের সময় পুরুষের পাশে থাকা অপ্রয়োজনীয়। আবার কারো মতে, বিশ্বকাপ কদিন পরেই শেষ হয়ে যাবে, মানুষ ভুলেও যাবে। কিন্তু সন্তান সারা জীবনের বিষয়। এই মুহূর্তের সাক্ষী হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
বিষয়টি নিয়ে ডকু বলেছেন, ‘আমার প্রথম সন্তান জন্ম নিতে যাচ্ছে, অবশ্যই আমি সেখানে থাকতে চাইব। আমাকে প্রশ্ন করলে বলব, কেউ সন্তানের জন্মক্ষণের মুহূর্ত মিস করতে চায় না। তবে আমি এও জানি, ফুটবলের সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত। আমি জানি ফেডারেশন ফুটবলারদের এসব ক্ষেত্রে পাশে থাকে এবং পরিস্থিতিটা বোঝে। দেখা যাক, আমার ক্ষেত্রে কী হয়।’
ডকুর দেশে ফিরতে চাওয়াকে সমালোচনা করে ফ্রান্সের সংবাদ মাধ্যমে লেকিপের উপস্থাপিক ফ্রাঞ্জ পিয়েরন বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ অসাধারণ আনন্দের মঞ্চ। শতশত ফুটবলার ডকুর জায়গায় খেলার জন্য জীবনবাজি রেখে লড়াই করেছে। এটা হয়তো জীবনে একবারই আসে। সন্তান জন্মদানের সময় পুরুষের পাশে থাকা একেবারেই অহেতুক।’
তার জবাবে সাবেক বাস্কেটবল তারকা ব্রাহিম আসলুম এক্সে লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ শেষ হলেই তো শেষ। সন্তান সারা জীবনের জন্য।’ পরেই অবশ্য ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন পিয়েরন, ‘আমি কেবল ব্যক্তিগত মতামত দিয়েছি। সন্তানের ক্ষেত্রে বাবার ভূমিকা ছোট করে দেখা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’
