আবু জাফর, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর ঝাঁপার চর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে দুইজনকে কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বালুভর্তি দুটি কার্গো (বাল্কহেড) জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে নীলডুমুর ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজিব, পিএসসি’র নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে খোলপেটুয়া নদীর ঝাঁপার চর এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় দুটি কার্গোসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. ইব্রাহিম গাজী, মো. নাঈম ইসলাম, মো. আজারুল ইসলাম, মো. সজিব শেখ এবং মো. জাবিরুল ইসলাম।
বিজিবি সূত্র জানায়, জব্দকৃত দুটি বাল্কহেডে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ ঘনফুট বালু ছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৭ হাজার ২০০ টাকা। পরে বাল্কহেড দুটি ব্যাটালিয়ন সদর পল্টন ঘাট এলাকায় নিয়ে আসা হয় এবং বিষয়টি শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়।
খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসেন, বুড়িগোয়ালিনী নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্ত শেষে বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী মামলা নং-৩২/২৬ দায়ের করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্কহেডের চালক মো. নজরুল ইসলাম (পিতা: মৃত আফসার আলী, গ্রাম: দরগাহপুর, থানা: আশাশুনি, জেলা: সাতক্ষীরা)-কে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। একইসঙ্গে তার সহযোগী মো. আক্তারুল জামান (৩০) (পিতা: জিল্লুর গাজী, গ্রাম: রাড়ুলী, থানা: পাইকগাছা, জেলা: খুলনা)-কে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সাতটি পিভিসি পাইপ অপসারণ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান সম্পর্কে ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজিব বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় পাঁচজনকে আটক এবং বালুভর্তি দুটি কার্গো জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশ ধ্বংসকারী এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ সংকটাপন্ন খোলপেটুয়া নদী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। বিজিবির এ অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
