শাবানা – একটি আলো ঝলমলে অধ্যায়
আজ ১৫ জুন, বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র শাবানার জন্মদিন।
তিনি কেবল একজন অভিনেত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
চলচ্চিত্রে নাম: শাবানা (নামটি দিয়েছিলেন পরিচালক এহতেশাম)
মাত্র ৯ বছর বয়সে পড়াশোনার ইতি টেনে তিনি পা রাখেন রূপালী পর্দায়। ১৯৬২ সালে 'নতুন সুর' চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে তার অভিষেক। এরপর ধাপে ধাপে এগিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ষাট, সত্তর ও আশির দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানিত অভিনেত্রীদের একজন।
চলচ্চিত্র সংখ্যা: ২৯৯টি
আলমগীরের বিপরীতে অভিনয়: ১৩০টিরও বেশি চলচ্চিত্র
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: মোট ১০ বার (অভিনেত্রী হিসেবে ৯ বার, প্রযোজক হিসেবে ১ বার)
আজীবন সম্মাননা: ২০১৭ সালে
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে আছে:
চকোরী (১৯৬৭), জননী, সখী তুমি কার, দুই পয়সার আলতা, নাজমা, ভাত দে, মাটির ঘর, ছুটির ঘণ্টা, রজনীগন্ধা, সখিনার যুদ্ধ প্রভৃতি।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য— দুই পয়সার আলতা, নাজমা ও ভাত দে – এই তিনটি ছবির জন্য তিনি পরপর তিন বছর শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পান (১৯৮২-৮৪)।
১৯৭৯ সালে স্বামী ওয়াহিদ সাদিকের সঙ্গে যৌথভাবে এস এস প্রডাকশন্স প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রযোজনাও শুরু করেন।
১৯৯৭ সালে হঠাৎ অভিনয় থেকে বিদায় ও পরে ২০০০ সালে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন— মস্কো, রোমানিয়া ও কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করে।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন স্ত্রী, মা ও সমাজসেবিকা। শাবানা-সাদিক দম্পতির তিন সন্তান – দুই মেয়ে (সুমি ও ঊর্মি) এবং এক ছেলে (নাহিন)।
তাঁর প্রাপ্ত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সম্মাননার মধ্যে রয়েছে:
* বাচসাস পুরস্কার (১৯৮২, ১৯৮৭)
* প্রযোজক সমিতি পুরস্কার (১৯৯১)
* কামরুল হাসান, নাট্য নিকেতন, ললিতকলা একাডেমী, সায়েন্স ক্লাব, কথক একাডেমী, জাতীয় যুব সংগঠন পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা।
আপনি বাঙালির রূপালী স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আপনার অবদান চিরদিন আমাদের মনে প্রেরণা জোগাবে।৷ এন্টার টিভি পরিবারআপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।
শুভ জন্মদিন শাবানা।