পটুয়াখালীর বাউফলে একটি পরিবারের কাছে চাঁদাদাবি ও তাদের আত্মীয় স্বজনদেরকে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১১জুন) দুপুরে উপজেলার কালাইয়া বানিজ্যিক বন্দরের সিনেমা হল রোড এলাকায় সংবাদ সম্মেলন ভুক্তভোগী পরিবার এক নারীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। এসময় অভিযোগের স্বপক্ষে সাংবাদিকদের সামনে বিভিন্ন তথ্য প্রমাণও উপস্থাপন করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মধু সুদন দাসের ছেলে ব্যবসায়ী আশিষ দাস লিখিত ব্যক্তব্যে পাঠ করেন। অভিযোগ করেন, তাদের গ্রামের শাহ আলমরর মেয়ে সাথী একজন তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছেন এবং মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত নারী অনেক মানুষকে ফাঁদে ফেলে সম্পর্কে জড়ান এবং পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন। অনেক বছর আগে তিনি আমার বড় ভাই উত্তম দাসকে অভিনব কায়দায় প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। পরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা দাবি করেন। তখন টাকা না দেওয়ায় প্রায় তিন বছর আগে (২০২৩ সাল) সাথী আক্তার আমার দাদা উত্তম দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তিনি আপোষ মিমাংসার প্রস্তাব দেয়। আমরা পরিবারের মান-সন্মানের ভয়ে তার সঙ্গে আইনজীবীর মাধ্যমে আপোষ করি।
আশিষ দাস লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, তখন আমাদের টাকা ঠিকই দিতে বাধ্য করেন সাথী আক্তার। পরে আইনজীবীর কক্ষে এসব বিষয় একটি নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে আপোষ হয়। সেখানে উভয় পক্ষ অঙ্গিকার করেন, ভবিষ্যতে কেউ কাউকে দোষারপ করবে না, কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা করবে না ও কোন ধরনের ঝামেলা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
সম্প্রতি ওই নারী আমাদের অঙ্গীকার অমান্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উত্তম দাসের বিরুদ্ধে ও পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে মিথ্যা বানোয়াট ও সম্মানহানিকর ভিডিও বক্তব্য প্রচার করে আসছেন। বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে আপোষের প্রস্তাব দিচ্ছেন। গত ৫ জুন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তিনি আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে টাকা টাকা দাবি করে, একপর্যায়ে আমার বোনকে অপমান করে এবং মিথ্যা মাললার হুমকি দেয়।
আশিষ দাস বলেন, ২০২৪ সালে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে আমার বাড়ির চিহৃিত সন্ত্রাসী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার রাজিব দাস, তার ভাই সজিব দাস ও তাদের সহযোগীরা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। দেশে এবং দেশের বাহিরে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর আমি প্রাণে বেঁচে ফিরি। এ ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীরা কারাভোগ করেন। এখন জামিনে মুক্ত রয়েছেন। ওই হত্যাচেষ্টা মামলার সাজা থেকে বাঁচতে আসামীরা অভিযুক্ত নারীকে নানানভাবে মদদ দিচ্ছেন।
এসব ঘটনা বাউফল থানা পুলিশকে অবগত করা হয়েছে এবং সকল নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা দাবি জানাই।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাথী আক্তারের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সারা দেননি। খুঁদেবার্তা দিয়েও তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাথী আক্তার অভিযোগ করতে থানায় আসছিলেন। তখন সকল বিষয় কথা বলেছি। তিনি খুবই অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেছেন। উত্তম দাসের বিরুদ্ধে তার কাছে সলিড এবিডেন্সও নাই। আমাদের প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছে তিনি মানসিক ডিপ্রেশন থেকে কোনো রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তবুও বিষয়গুলো আমরা আরও খতিয়ে দেখবো।
মোঃ রুবেল হোসেন বাউফল প্রতিনিধি:
