দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বঙ্গোপসাগরে টহল চলাকালে কুতুবদিয়া বহিঃনোঙর এলাকা থেকে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের সময় এক হাজার লিটার ডিজেল, ৬৫০ বস্তা সিমেন্ট ও একটি ইঞ্জিনচালিত বোটসহ ১১ জন পাচারকারীকে আটক করেছে নৌবাহিনী।
আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি পাচারকারী চক্র ইঞ্জিনচালিত বোট ব্যবহার করে সমুদ্রপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচার করছিল— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিন ও আশপাশের এলাকায় টহল জোরদার করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ শহীদ মহিবুল্লাহ কুতুবদিয়া বাতিঘর থেকে প্রায় ৪২ মাইল দূরে একটি সন্দেহজনক মাছ ধরার বোট শনাক্ত করে।
নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে বোটটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি গতিপথ পরিবর্তন করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে নৌবাহিনীর জাহাজ মহিবুল্লাহ ধাওয়া করে ‘এফবি অঙ্কিতা অন্বেষা’ নামের বোটটি আটক করতে সক্ষম হয়। তল্লাশিতে বোটটির ভেতর থেকে ১ হাজার লিটার ডিজেল এবং ৬৫০ বস্তা বাংলাদেশি ডায়মন্ড সিমেন্ট জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে আটক করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, অধিক মুনাফার আশায় ডিজেল ও সিমেন্ট মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে তারা এসব মালামাল নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে জব্দ করা মালামাল ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পতেঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নৌবাহিনী জানায়, সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে সন্ত্রাস, মাদক চোরাচালান এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিযান ও টহল কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত রয়েছে।
