শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টেপিরবাড়ী দেওচালা গ্রামে অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত একটি মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কারখানাটির সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার(২১ ডিসেম্বর) দুপুরে তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী দেওচালা এলাকায় অবস্থিত ‘আমিন ফিড’ নামের ওই কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুল ইসলাম। অভিযানে কারিগরি সহায়তায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুল ইসলাম জানান, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই মৎস্য খাদ্য উৎপাদন ও কাঁচামাল গুদামজাত করে আসছিল। অভিযানে দেখা যায়, কাঁচামালের পুষ্টিগুণ, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও গুদামজাতকরণে একাধিক অনিয়ম রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা মৎস্য অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদনও প্রতিষ্ঠানটির ছিল না।
তিনি বলেন,“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকায় মৎস্য খাদ্য পশু আইন ২০১০ অনুযায়ী কারখানাটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে একই অপরাধে জড়ালে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শ্রীপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন,“অনিবন্ধিত কারখানায় মানহীন উপকরণ দিয়ে তৈরি মাছের খাদ্য মাছের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর প্রভাব মানুষের শরীরেও পড়তে পারে। তাই এ ধরনের অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য ও কাঁচামালের তীব্র দুর্গন্ধে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। বিশেষ করে পাশের একটি মসজিদের মুসল্লিরা নামাজ আদায়ে সমস্যায় পড়তেন। আবাসিক এলাকায় এ ধরনের পরিবেশ দূষণকারী কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানান তারা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধ লাইসেন্স সংগ্রহ না করা পর্যন্ত কারখানাটি পুনরায় চালু করা যাবে না।
অবৈধ মৎস্য ফিড উৎপাদনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযানকে সচেতন মহল স্বাগত জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের তদারকি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে।
