গাজীপুরের শ্রীপুরে এক রাতেই উপজেলার তিন ইউনিয়নের পৃথক তিন এলাকায় চুরি ও লুটের অভিযোগ উঠেছে। বরমী ইউনিয়নে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূর গলায় ছুরি ধরে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধস্তাধস্তির সময় ওই গৃহবধূর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে যায়। একই রাতে গাজীপুর ইউনিয়নে তিন কৃষকের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে চারটি গরু চুরি এবং মাওনা ইউনিয়নের দুই বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে লুটের অভিযোগ উঠেছে।
এক রাতের ব্যবধানে তিন ইউনিয়নে এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি, বাড়িতে চুরি ও লুটের ঘটনা বেড়েছে। তাঁরা চুরি প্রতিরোধে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোররাত ৪টার দিকে বরমী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বরমী মধ্যপাড়া এলাকায় প্রবাসী শরীফের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কুলসুম আক্তার লাকী (৩৮) জানান, ঘুম থেকে উঠে তিনি গলায় ছুরি ধরা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে দেখতে পান। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি পাশের বাড়ির শহিদুল ইসলামের ছেলে অপু। তাঁর অভিযোগ, ওই ব্যক্তি বাউন্ডারি দেয়াল টপকে বাড়িতে ঢুকে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙেন এবং পরে সিলিং টপকে শোবার ঘরে প্রবেশ করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে যায়।
কুলসুমের দাবি, পরে গলায় ছুরি ধরে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার, কিস্তির ৬১ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে তাঁর ছোট মেয়েকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, একই রাতে গাজীপুর ইউনিয়নের নিজ মাওনা এলাকায় তিন কৃষকের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে চারটি গরু চুরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত আড়াইটার দিকে নুরুল ইসলাম মাস্টারের গোয়ালঘর থেকে একটি গাভিন গাভি, কুতুব উদ্দিন ফকিরের গোয়ালঘর থেকে একটি বাছুর এবং নেয়ামুল মৈশালের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু নিয়ে যায় চোরেরা। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।
এদিকে মাওনা ইউনিয়নের বদলিভাঙ্গা গ্রামে একই রাতে দুটি বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে চুরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ রানা দাবি করেন, চেতনানাশক ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করার পর ঘরের দরজা ভেঙে মালামাল নিয়ে যায় চোরেরা।
বরমী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খন্দকার হারুন বলেন, গত ছয়-সাত মাস ধরে এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়েছে। গাজীপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আমজাত ফকিরও এক রাতে তিন বাড়ি থেকে চারটি গরু চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ এসব ঘটনায় নেশাগ্রস্ত কিশোর ও যুবকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুললেও এর পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, প্রবাসীর বাড়িতে চুরির ঘটনায় অভিযুক্তদের একজনকে আটক করা হয়েছে এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পৃথক তিনটি জায়গায় চুরির ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
