বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়া বিএমইটি

অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়া বিএমইটি

অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়া বিএমইটি


বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে সমুদ্র পথে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন বেড়েছে। এর প্রধান কারণ জনশক্তি রপ্তানি খাতে সীমাহীন দুর্নীতি ও প্রতারণা। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, বোয়েসেলসহ জনশক্তি রপ্তানি-সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েকটি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জনগণের স্বার্থ রক্ষার চেয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির স্বার্থ রক্ষায় বেশি তৎপর থাকেন। প্রবাসী-কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার যোগসাজশে এসব জনশক্তি রপ্তানি কারবারি হয়ে ওঠেন বেপরোয়া। তারা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে চলে যায়।

বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের সঙ্গে নানান অনিয়ম করে। তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করে। ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়া, বেতনের ভুল তথ্য দিয়ে তারা অভিবাসনে আগ্রহীদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যেহেতু এসব রিক্রুটিং এজেন্সির আঁতাত রয়েছে তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এভাবেই এক দুষ্টচক্রের হাতে বন্দি আমাদের জনশক্তি রপ্তানি।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন শাখা মূলত বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপদ, বৈধ ও সুশৃঙ্খল কর্মসংস্থানের দায়িত্বে নিয়োজিত। এ শাখাটি ‘রেসট্রিকটেড এরিয়া’ ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ এবং প্রতিটি ফাইল যাচাই হয় নিয়মমাফিক। কিন্তু অফিসের নির্ধারিত সময় শেষ হতেই চিত্র বদলে যায়। সন্ধ্যা নামতেই সরগরম হয়ে ওঠে নানান এজেন্সির লোকদের আনাগোনায়। সক্রিয় হয়ে ওঠে অসাধু সিন্ডিকেট। 

অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারে বসে নিজেরাই কাজ সারেন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা। এক দিনে ৭৯টি ফাইল অনুমোদন, জাল ও এডিটেড পাসপোর্ট দিয়ে ছাড়পত্র-এসব কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেক এজেন্সির সৌদিতে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন নেই, তবু তারা অসংখ্য শ্রমিক পাঠিয়েছে। সহায়সম্বল বিক্রি করে স্বপ্ন দেখা প্রবাসীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সরকারি সার্ভারে অসাধু চক্রের অবাধ প্রবেশের ফলে নাগরিকদের তথ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। নিয়ম, নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার মুখোশের আড়ালে এ অনিয়মের আসর চলছেই।