বছরের পর বছর হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে চলাচল ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। বর্ষা এলেই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের মহান্দী ও কাটবুনিয়া এলাকার জনজীবন। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছানো এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল—সবকিছুতেই ছিল সীমাহীন ভোগান্তি।
অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হতে যাচ্ছে। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে মহান্দী থেকে কাটবুনিয়া পর্যন্ত প্রায় ১,৯৫০ মিটার নতুন সড়ক নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সড়ক নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনি বলেন, একটি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি মানুষের জীবনমানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায় এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও প্রাইম পাওয়ার সলিউশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন, খলিলনগর ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, মহান্দী–কাটবুনিয়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় ছিল। বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কাদা জমে যাওয়ায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নিতে অনেক সময় খাটিয়া কিংবা ভ্যানে করে কাদামাটি পেরিয়ে মূল সড়কে পৌঁছাতে হতো। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া এবং কৃষকদের কৃষিপণ্য বাজারজাত করাও ছিল অত্যন্ত দুরূহ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহুদিন ধরে একটি টেকসই সড়কের দাবি জানিয়ে এলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আশা, কাজ শেষ হলে বর্ষাকালেও নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করবে এবং এলাকার শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন বলেন, সরকারি নকশা ও নির্ধারিত মান বজায় রেখেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় কারিগরি তদারকি নিশ্চিত করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলার পর অবশেষে কাটবুনিয়া গ্রামের মানুষের ভাগ্যে উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই দূর হবে না, বরং এলাকার সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মো: আবু রায়হান (তালা, সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
