কিছুক্ষণ ধরেই টলমল করছিল চোখ। শেষ বাঁশি বাজার পর আর আটকাতে পারলেন না লিওনেল মেসি। দুই চোখ বেয়ে ঝরতে থাকল আনন্দাশ্রু। তবে কিছুক্ষণ পর সেটিকে পুরোপুরি উচ্ছ্বাসের হাসিতে পরিণত করে দিলেন আর্জেন্টিনার বাকি ফুটবলাররা।
নিজেদের ডাগআউটের কাছে প্রথমে মেসিকে ঘিরে তৈরি করলেন বৃত্ত। পরে সবাই মিলে কাধেই তুলে নিলেন অধিনায়ককে। সেখানেই থামলেন না লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজরা। লিওনেল মেসিকে শূন্যে ভাসিয়েই মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয়ের উদযাপন সারল আর্জেন্টিনা।
ততক্ষণে মেসির চোখ থেকে মুছে গেছে আনন্দাশ্রু। তার বদলে চোখে-মুখে জায়গা করে নিয়েছে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। আর তাকে এমন আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দেওয়ার জন্যই মরিয়া লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজরা।
ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে লাউতারো বলেই দিয়েছেন, মূলত মেসির জন্যই আরও বেশি করে বিশ্বকাপ জিততে চান তারা।
“আমি তাকে (মেসি) বলেছিলাম যে, আমরা নিজেদের জন্য তো সবটুকু উজাড় করে দেবোই, তবে তার জন্য আরও বেশি দেব। কারণ এটি তার শেষ বিশ্বকাপ এবং সে আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে।”
পরে মেসির নেতৃত্বগুণেরও প্রশংসা করেন লাউতারো।
“(মেসির নেতৃত্ব) মাঠের খেলায় প্রতিফলিত হয়। প্রতিদিন অনুশীলনে বা ব্যক্তিগতভাবে সে আমাদের যা কিছু দেখায়, তা আমি একান্তই নিজের কাছে রাখতে চাই, তবে সে সত্যিই অসাধারণ।”
“সে আমাদের পথপ্রদর্শক, আমাদের অনুপ্রেরণা, আমাদের নেতা। আজ তার সেই অবিশ্বাস্য দৌড় এবং শেষে তাকে আবেগপ্রবণ হতে দেখে, আমি তাকে মাঠে বলেছি এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে, কারণ সে এটির যোগ্য।”
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে মেসির গোলেই সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এরপর বুনো উল্লাসে মাতেন আটবারের ব্যালন ডি অরজয়ী তারকা। তখন তার ঠিক পেছনেই ছিলেন আলভারেজ। প্রতি ম্যাচেই মেসির এমন পারফরম্যান্স দেখার পর প্রশংসা করার আর ভাষা নেই আলভারেজের।
“লিওকে বর্ণনা করার মতো নতুন কোনো শব্দ নেই। এই বিশ্বকাপে সে যেমন পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে, তা সত্যিই অসাধারণ। আমরা তাকে সাহায্য করার, তার সঙ্গী হওয়ার এবং তার পাশে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার চেষ্টা করছি।”
“সে আমাদের জন্য যা কিছু করে এবং আমাদের সাথে যেভাবে মিশে থাকে, তার জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। সে একজন কিংবদন্তি, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।
