মাগুরার শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সরকারি অর্থ ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলনের অভিযোগে সৃষ্ট সিভিল অডিট আপত্তির ১৩ বছর পার হলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে শিক্ষা বিভাগে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ম. ম. ওহেদুন্নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, শালিখা উপজেলার সাবেক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বর্তমানে মাগুরা জেলার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালের দায়িত্বকালীন সময়ে ভূয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি তহবিল থেকে ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৪ টাকা উত্তোলন করা হয়। এ ঘটনায় পরবর্তীতে সিভিল অডিট আপত্তি উত্থাপিত হলেও দীর্ঘ সময়েও তার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবু হেনা মোস্তফা কামাল ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি উপজেলার কয়েকজন শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তোলেন। ওই চক্র উপজেলার ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করত।
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি যশোর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয় পর্যন্ত গড়ালেও তা এখনো দৃশ্যমান কোনো নিষ্পত্তিতে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যশোর দুদক কার্যালয়ের উপপরিচালকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ম. ম. ওহেদুন্নবী বলেন, “ডিজি অফিস থেকে আমাকে শিক্ষা অফিসে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য চিঠি দিতে বলা হয়েছিল। আমি দুইবার চিঠি পাঠিয়েছি, কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি। এখন বিষয়টি সম্পূর্ণ ডিজি মহোদয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।”
একাধিক সূত্রের দাবি, শালিখা উপজেলা থেকে বদলি হওয়ার পরও আবু হেনা মোস্তফা কামাল বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষা অফিসের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। গোপন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। একই সঙ্গে অডিট আপত্তির বিষয়টি মীমাংসার জন্য কয়েকজন শিক্ষক হিসাবরক্ষণ অফিসেও নিয়মিত যোগাযোগ করছেন।
খাটোর রামানন্দকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ অঞ্জন আলী বলেন, “সাবেক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আমাকে যশোর দুদক কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। সেখানে মৌখিকভাবে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আমার লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়। এরপর বিষয়টির অগ্রগতি সম্পর্কে আমি আর কিছু জানি না।”
উপজেলা শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অডিট আপত্তি ও অভিযোগের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, “বিষয়টি তেমন কিছু নয়। বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছিল। হয়তো এজি অফিসে নথিপত্র হারিয়ে গেছে। এতদিন পর কেন অডিট আপত্তি দেওয়া হলো, সেটিও আমার জানা নেই।”
জসীম উদ্দীন, শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি:
