মাগুরার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এমন একটি সময় ছিল, যখন ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো কিংবা সংবাদ প্রকাশ করাও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। সেই সময়ে যারা রাজপথে, গণমাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, অনিয়ম ও রাজনৈতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন, তাদের মধ্যে সাংবাদিক মিরাজ আহমেদের নাম উল্লেখ করেন তার সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তাদের দাবি, দীর্ঘ বছর ধরে মাগুরায় বিএনপি ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের নানা কর্মসূচি, আন্দোলন-সংগ্রাম, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে সংবাদ আকারে তুলে ধরেছেন সাংবাদিক মিরাজ আহমেদ। যখন অনেকেই নীরব ছিলেন, তখন তিনি নিজের লেখনী ও সংবাদকর্মের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।
সমর্থকদের অভিযোগ, সেই অবস্থানের কারণেই তাকে একাধিকবার হামলা, মামলা এবং কারাবরণের শিকার হতে হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সময়ে তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয় এবং বিভিন্ন সময়ে তাকে গ্রেপ্তার ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। তারা দাবি করেন, এসব ঘটনার পেছনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব ছিল।
তাদের আরও অভিযোগ, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস সাইফুজ্জামান শিখরকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক প্রভাব ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের কারণেও তিনি চাপে পড়েন। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে তাকে বারবার বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
মিরাজ আহমেদের সমর্থকদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ হয়নি। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে বিএনপির পরিচয় ব্যবহারকারী কিছু ব্যক্তি এখনও বিভিন্নভাবে তাকে চাপে রাখার চেষ্টা করছেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও চলমান রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, আজ যারা রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করছেন, তাদের অনেকেই হয়তো সেই কঠিন সময়ের কথা ভুলে গেছেন। কিন্তু ইতিহাস ভুলে যায়নি কে কখন কথা বলেছিল, কে নীরব ছিল এবং কে ঝুঁকি নিয়ে সত্য প্রকাশের চেষ্টা করেছিল।
সমর্থকদের দাবি, মাগুরা জেলা বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন, সাংবাদিক মিরাজ আহমেদ তাদের অন্যতম। তাই তাকে অবমূল্যায়ন করা বা তার অবদান অস্বীকার করা মানে শুধু একজন সাংবাদিককে ভুলে যাওয়া নয়, বরং মাগুরা জেলা বিএনপির সংগ্রামী অতীত, ত্যাগ, নির্যাতন এবং প্রতিরোধের ইতিহাসকেও অস্বীকার করা।
তাদের মতে, ব্যক্তি মিরাজ আহমেদের চেয়েও বড় বিষয় হলো সেই সময়ের সাহসী অবস্থান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সত্য প্রকাশের প্রচেষ্টা। আর সেই কারণেই মাগুরার রাজনৈতিক ইতিহাসের আলোচনায় সাংবাদিক মিরাজ আহমেদের নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
জিহাদ হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
