অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
নীলফামারী জেলায় সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের (CPC) একটি বিশেষ অভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানার মোঃ আনিছুর রহমানের ছেলে মোঃ রাকিবুল হোসেন (২৬) এবং রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানার মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ রনি ইসলাম ওরফে খাজা মোহাম্মদ আলী (১৯)। গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ৫টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ১টি বাটন মোবাইল ফোন এবং ১২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীকে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন জাল কাগজপত্র তৈরি ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা বলত। এভাবে বিশ্বাস অর্জন করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘বিকাশ’-এর মাধ্যমে কয়েক দফায় মোট ১,৪৬,৪০০ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে ও গোপনীয়তা বজায় রেখে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলত। গ্রেফতারকৃত মোঃ রনি ইসলাম ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে একটি ভুয়ো ফেসবুক পেজ (Fake Facebook Page) খোলেন। সেখানে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার বিষয়ে আকর্ষণীয় সব ভিডিও প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করতেন তিনি। আর এই কাজে তাকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করতেন মোঃ রাকিবুল হোসেন। রাকিবুল মূলত বিকাশের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি দেখাশোনা করতেন।
সাধারণ মানুষ তাদের এই চটকদার বিজ্ঞাপন ও ভিডিও দেখে সরল বিশ্বাসে যোগাযোগ করতেন এবং অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে প্রতারণার শিকার হতেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে প্রতারকরা অনলাইন থেকে অর্থের বিনিময়ে একটি অস্ট্রেলিয়ান নম্বর (Australian Number) সংগ্রহ করে 'ইমো' (IMO) অ্যাকাউন্ট খুলে ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখত।
টাকা খোয়ানোর পর ভুক্তভোগী ব্যক্তি সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর সিআইডির সাইবার টিম বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর ভিকটিমকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন, ২০২৬ তারিখে ঢাকা মহানগরের যাত্রাবাড়ী থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
মামলা রুজুর পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে নীলফামারীতে অভিযান চালিয়ে এই দুই প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডি জানিয়েছে, মামলাটি বর্তমানে অধিকতর তদন্তাধীন রয়েছে এবং এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই সাথে অনলাইন মাধ্যমে যেকোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বা আর্থিক লেনদেনের সময় সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সিআইডি।
এসময় সিআইডি কর্তৃক আরও জানানো হয় প্রতারকদের আইনের আওতায় আনতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
