সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে তামান্নার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও প্রকৃতপক্ষে তিনি জীবিত রয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন স্পর্শকাতর সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবার।
বর্তমানে তামান্না রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে এবং শারীরিক অবস্থারও উন্নতি হচ্ছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
তামান্নার ফুফাতো ভাই ময়নুল হোসেন বলেন, “তামান্না বেঁচে আছে এবং আগের চেয়ে অনেক ভালো আছে। আমি তার পাশেই আছি। সে এখন কথা বলতে পারছে। কিন্তু কিছু মিডিয়ায় তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার পর থেকেই তামান্নার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় তিনি ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামান্নার মৃত্যুর খবর প্রচার করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
তারা গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো তথ্য প্রকাশের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে তা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মৃত্যু সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও অটোভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তামান্নার বাবা মোতালেব সরকার (৪০) ও মা ফজিলা খাতুন (৩৫) নিহত হন। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অটোভ্যানচালক নুরু (৪৫)।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তামান্নাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
তামান্নার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া চাওয়া হয়েছে। স্বজনরা আশা প্রকাশ করেছেন, সবার দোয়া ও চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তিনি দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।
আল-আমিন হোসেন : সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
