বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী লাকী ইনাম। একাধারে অভিনেত্রী, নাট্যকার ও নাট্যনির্দেশক হিসেবে সমান দক্ষতায় তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন ও সংস্কৃতিচর্চার প্রতিটি ক্ষেত্রে রেখেছেন অনন্য স্বাক্ষর।
১৯৭২ সালে ‘নাগরিক নাট্য সমপ্রদায়’-এর মাধ্যমে মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন তিনি। সেই থেকেই টেলিভিশন ও মঞ্চ—দুই মাধ্যমেই সমানভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
টেলিভিশনে তিনি অভিনয় করেছেন হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বহুব্রীহি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’ সহ অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটকে। পাশাপাশি পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘আমাদের আনন্দ বাড়ি’।
নাট্যনির্দেশনা ও মঞ্চনাটক
মঞ্চে নির্দেশনা দিয়েছেন একাধিক কালজয়ী নাটক—
আমি বীরাঙ্গনা বলছি, শারমা, প্রাগৈতিহাসিক, সেইসব দিনগুলি, বিদেহ, মুক্তির উপায়,
সম্মাননা ও স্বীকৃতি-
* মঞ্চে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ১৯৮৪ সালে পেয়েছেন ‘অ্যাওয়ার্ড অব অনার’।
* ২০১৪ সালে পেয়েছেন শিল্পকলা পদক।
* রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক-এ ভূষিত হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি নাগরিক নাট্যাঙ্গনের সাধারণ সভাপতি এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিজীবনে সঙ্গী ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও নাট্যকার প্রয়াত ড. ইনামুল হক। তাঁদের বড় মেয়ে হৃদি হক মঞ্চ ও টেলিভিশনে অভিনয় করছেন নিয়মিত। ছোট মেয়ে প্রৈতি হকও শিল্পচর্চার সঙ্গে যুক্ত।
ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গান শিখেছেন তিনি। ভরতনাট্যম, কত্থক ও মণিপুরী নৃত্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। শিল্পমনস্ক পরিবারে বেড়ে ওঠা এই গুণি শিল্পীর বাবা ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। ফলে শৈশব কেটেছে বিভিন্ন জেলা শহরের বৈচিত্র্যময় পরিবেশে, যা তার সৃজনশীলতায় রেখেছে গভীর প্রভাব।
এককথায়, নাট্যজগতে লাকী ইনাম মানে বহুমাত্রিক প্রতিভার প্রতিচ্ছবি। মঞ্চ হোক কিংবা টেলিভিশন—সবখানেই তিনি এক অনন্য অভিনয় ব্যক্তিত্ব। শুভ জন্মদিনে কিংবদন্তি এই শিল্পীর প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও নিরন্তর ভালোবাসা।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা