শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাঘারপাড়া পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা, ইউনিয়ন ব্যবস্থায় ফিরতে চায় জনগণ

বাঘারপাড়া পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা, ইউনিয়ন ব্যবস্থায় ফিরতে চায় জনগণ

বাঘারপাড়া পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা, ইউনিয়ন ব্যবস্থায় ফিরতে চায় জনগণ

 যশোরের বাঘারপাড়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গত দুই দিনের টানা বর্ষায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে আছেন তিনটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। পৌরবাসীর অভিযোগ, অপরিকল্পিত ও অপরিচ্ছন্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দুটি কালভার্ট সংস্কার না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার চেয়ে সেই ইউনিয়ন পরিষদ থাকাই ভালো ছিল বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকে। 
সরেজমিনে পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি বাড়ির উঠানে ড্রেনের পঁচা পানি। এতে অনেকের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। একই সাথে ময়লা পানিতে চলাচল করায় অনেকের শরীরে খোস-পাঁচড়াও দেখা দিয়েছে। 
 

পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পাওয়ার হাউজ পাড়ায় (বিল পাড়া) বীর মুক্তিযোদ্ধা মান্নান শেখ, শহীদুল ইসলাম ও আলী বঙ্রে বাড়ি। সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়িতে পানি উঠে যায়। মান্নান শেখের স্ত্রী কুলসুম বেগম জানালেন, গত কয়েক বছর পানি বের হওয়ার কালভার্ট বন্ধ হওয়ায় বৃষ্টি হলেই বাড়িতে পানি উঠে যায়। তখন দুর্ভোগের শেষ থাকে না। একই অভিযোগ জানালেন, ৮নং ওয়ার্ডের আব্দুর রহমান মিন্টু ও ৯ নং ওয়ার্ডের জসিমের স্ত্রী মিতা বেগম। মিতা বেগম একটি ভবনের কাজ শুরু করেছেন। তিনি বর্তমানে যেখানে আছেন তার চারিদিকে হাটু পানি। রান্নাঘর,শৌচাগার ও মুরগির ঘর পানির নিচে। দিনের ১৬ঘন্টাই তার পানিতে ভিজতে হয়। এতে তার ও সন্তানদের শরীরে খোস-পাঁচড়া দেখা দিয়েছে। 
 

বাঘারপাড়া পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান মিন্টু বলেন, ৭,৮ও ৯ ওয়ার্ডের পানি মহিরন বিলপাড়ার দুটো কালভার্ট দিয়ে ঢেপোর খাল দিয়ে চিত্রা নদীতে যেত। এখানে ৮ নং ওয়ার্ডের শহীদুলের বাড়ির পাশের কালভার্টটি বিগত আওয়ামীলীগ আমলের মেয়র মাত্র ১২ ইঞ্চির একটি আরসিসি পাইপ ব্যবহার করে। যা দিয়ে অনেক ধীর গতিতে পানি নামে। এছাড়াও দীর্ঘ দিন সংস্কারের অভাবে সেটাও বন্ধ হয়ে আছে। ফলে ভারী বৃষ্টি হলেই বসত বাড়িতে পানি জামে যায়। এছাড়াও গত ২০/২১ অর্থ বছরে এডিপি প্রকল্পের আওতায় মহিরন বিলপাড়ার ছোট বটতলায় একটি কালভার্ট করা হয়। এর পাশের জমির মালিক কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করায় সেটাও দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে আছে। আব্দুর রহমান মিন্টু দাবি জানান, প্রশিকার মোড়ের ড্রেন পরিস্কার, শহীদুলের বাড়ির পাশে একটি কালভার্ট ও ছোট বটতলার কালভার্টটির মুখে মাটি অপসারণ করা গেলে তিনটি ওয়ার্ড জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচবে। এতে আমন চাষীরাও উপকৃত হবে।
 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৮ নং ওয়ার্ডের এক বাসীন্দা জানালেন, পৌরসভা হওয়ার পর জমি ও ঘর-বাড়ির ট্যাঙ্ বেড়েছে। কিন্তু নাগরিকসুবিধা মোটেই বাড়েনি। এর চেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থাকাই ভালো ছিলো।
বাঘারপাড়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভুপালী সরকার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এ বিষয়ে বলেন, আমি আজই (রোববার) সরেজমিনে পরিদর্শণ করব। এরপর টেকনিসিয়নদের সাথে পরামর্শ করে ও দ্রুত সময়ে তিনটি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার স্থায়ি সমাধান করা হবে।