সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শেখপাড়ায় জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি, মালিকানা বিরোধ আদালতে বিচারাধীন

শেখপাড়ায় জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি, মালিকানা বিরোধ আদালতে বিচারাধীন

শেখপাড়ায় জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি, মালিকানা বিরোধ আদালতে বিচারাধীন

মো: সাজ্জাদ হোসেন মাগুরা জেলা প্রতিনিধি

 মাগুরা সদর উপজেলার শেখপাড়া গ্রামে একটি জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী ও মোঃ জিন্নাত আলী বিশ্বাসের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। জমিটি সরকারি রাস্তা নাকি ব্যক্তি মালিকানাধীন—এ নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি রয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
মোঃ জিন্নাত আলী বিশ্বাসের করা সুবিচারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদনে জমিটির পূর্ববর্তী রেকর্ড ও বর্তমান অবস্থার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির ওপর দিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের চলাচল রয়েছে।
ভূমি অফিসে সংরক্ষিত রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, সি.এস ৯১৮ নম্বর দাগে রাজা প্রমথনাথ ভূষণ দেবরায়ের নামে ২১ শতক জমি রেকর্ড ছিল। পরবর্তীতে দাখিলা মূলে ওই জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার পর আঃ গনি মোল্যার নামে এস.এ ও আর.এস রেকর্ড রয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সি.এস ৯১৮ নম্বর দাগটি এস.এ রেকর্ডে ৯১৮ নম্বর দাগ হিসেবে ৫ নম্বর খতিয়ানে ‘ধানী’ শ্রেণিতে আঃ গনি মোল্যার নামে ২১ শতক এবং পরবর্তীতে আর.এস রেকর্ডে ৯৯৬ নম্বর দাগ হিসেবে ৪৮ নম্বর খতিয়ানে ‘বাগান’ শ্রেণিতে একই পরিমাণ জমি আঃ গনি মোল্যার নামে চূড়ান্তভাবে রেকর্ড ও প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে, জমির মালিকানা দাবি করা মোহাম্মদ আলী বলেন, তার বাবা দাখিলা মূলে বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমিটির মালিকানা লাভ করেন। এস.এ ও আর.এস—উভয় রেকর্ডই তার বাবার নামে রয়েছে এবং পরচার মন্তব্য কলামেও এ সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মোহাম্মদ আলীর ভাষ্য, তার বাবা দীর্ঘদিন ওই জমি ভোগদখল করেছেন এবং বর্তমানে তারা উত্তরাধিকারসূত্রে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। জমিটিতে কখনো সরকারি রাস্তা ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমানে সেখানে কোনো সরকারি রাস্তা নেই। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি বাগান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন তারা এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় গাছপালা রয়েছে।
মোহাম্মদ আলী আরও জানান, জমিটি নিয়ে জিন্নাত আলী বিশ্বাস গং মাগুরা জজ কোর্টে ১০১৫/২০২৪ নম্বর মামলা করেন। ওই মামলায় আদালতের রায় তাদের পক্ষে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন এবং এ সংক্রান্ত রায়ের কপিও দেখান। এছাড়া জমিটি নিয়ে জিন্নাত আলী বিশ্বাস গং ডিসি কোর্টে ৪৪ ধারায় যে মামলা করেছিলেন, সেখানেও তাদের পক্ষে রায় হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে সর্বশেষ সরকার বাদী হয়ে মাগুরা জজ কোর্টে ৫১৫/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেছে বলে জানান মোহাম্মদ আলী। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। বিচারাধীন অবস্থায় জমিটিকে সরকারি রাস্তা বা সর্বসাধারণের ব্যবহার্য জমি হিসেবে উপস্থাপন করে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মোহাম্মদ আলীর অভিযোগ, একটি পরিবারের কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে তাদের হয়রানি করছেন। তাদের লাগানো গাছপালা ও জমির বেড়া একাধিকবার ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ভুল ও অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদনে একদিকে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও, অপরদিকে সরকারি রেকর্ডে জমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মালিকানা ও শ্রেণির তথ্যও উঠে এসেছে।
জমিটির মালিকানা, ব্যবহার ও সরকারি রাস্তার বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন হওয়ায় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে প্রকৃত মালিকানা ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হবে।