বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তৃণমূল পর্যায়ের স্তর হলো ইউনিয়ন পরিষদ। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ের সার্বিক উন্নয়নের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এই প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, একটি ইউনিয়ন পরিষদ মোট ১৩ জন জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত হয়।
পরিষদের গঠন ও কাঠামো
একটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম পরিচালিত হয় ১৩ সদস্যের একটি পরিষদের মাধ্যমে। এর গঠন বিন্যাস নিম্নরূপ:
চেয়ারম্যান: পুরো ইউনিয়নের ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, যিনি পরিষদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাধারণ সদস্য: ইউনিয়নকে ৯টি প্রশাসনিক ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে একজন করে মোট ৯ জন সাধারণ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংরক্ষিত নারী সদস্য: নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পুরো ইউনিয়নকে ৩টি সংরক্ষিত আসনে ভাগ করা হয় (প্রতি ৩টি ওয়ার্ড নিয়ে ১টি আসন)। এখান থেকে ৩ জন নারী সদস্য নির্বাচিত হন।
মেয়াদ ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
আইন অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর। এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন থেকে। আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে।
পরিষদের কার্যাবলি ও দায়িত্ব
তৃণমূল পর্যায়ে জনসেবা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদ বহুমুখী দায়িত্ব পালন করে থাকে। এর উল্লেখযোগ্য কাজগুলো হলো:
অবকাঠামো ও জনসেবা: রাস্তাঘাট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ, বৃক্ষরোপণ, আলোকসজ্জার ব্যবস্থা এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন।
প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা: গ্রাম পুলিশ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ।
উন্নয়নমূলক কার্যক্রম: কৃষি, মৎস্য ও পশু পালন, কুটির শিল্প এবং সমবায় কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনা: বিভিন্ন কর, রেট, ফি ও টোল আদায়ের মাধ্যমে নিজস্ব তহবিল গঠন করা, যা ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
তৃণমূল গণতন্ত্রের শক্ত ভিত হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও স্থানীয় সমস্যার সমাধানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি ইউনিয়নের সামগ্রিক সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।
বদরুজ্জামান ভূঁইয়া
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।
