মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

হরমুজে প্রতিরক্ষা মিশনে যাচ্ছে ফরাসি যুদ্ধজাহাজ

হরমুজে প্রতিরক্ষা মিশনে যাচ্ছে ফরাসি যুদ্ধজাহাজ

হরমুজে প্রতিরক্ষা মিশনে যাচ্ছে ফরাসি যুদ্ধজাহাজ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে কার্যত জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ আবার নিরাপদভাবে চালু করার লক্ষ্য নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মিশনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই মিশনের অংশ হিসেবে একটি ফরাসি যুদ্ধজাহাজ সুয়েজ খালের দক্ষিণ দিক হয়ে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিচালিত যুদ্ধজাহাজ ‘শার্ল দ্য গল’ হরমুজ প্রণালির দিকে রওনা হয়েছে। 

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো।

 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে আবার আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। দুই নেতা বলছেন, এই মিশন হবে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটি মোতায়েন করা হবে।ম্যাখোঁ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এই উদ্যোগ জাহাজ মালিক ও বীমা কম্পানিগুলোর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। তিনি আরো বলেন, এই মিশন যুদ্ধে জড়িত কোনো পক্ষের অংশ হবে না।

বুধবার ম্যাখোঁ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও আলোচনা করবেন।ম্যাখোঁ আরো বলেন, হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা এগোতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্সির এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো এমন একটি কাঠামো তৈরি করা যেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই লাভবান হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান প্রণালিতে তাদের জাহাজ চলাচলের সুযোগ পাবে, আর এর বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক বিষয়ে আলোচনায় বসবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে অবরোধ শিথিল করবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।এদিকে, কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তাহলে আবার সামরিক হামলা শুরু হতে পারে। তবে ইরান এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং জানিয়েছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাওয়া প্রস্তাব তারা পর্যালোচনা করছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম  জানায়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে, উভয় পক্ষ একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যেখানে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করার বিষয়ে সম্মত হতে পারে।

এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং ইরানের জব্দ সম্পদের একটি বড় অংশ মুক্ত করে দিতে পারে। এছাড়া চুক্তি কার্যকর হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথাও আলোচনা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।