শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মাগুরায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

মাগুরায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

মাগুরায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন মানবতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তার কবি। তাঁর কবিতায় পরাধীনতা, শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা উচ্চারিত হয়েছে বলেই তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত। নজরুলের আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় মাগুরা জেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এসব কথা বলেন।
 

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তাঁর রচনাবলী অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাংলা সাহিত্যে আরবি ও ফারসি শব্দ ব্যবহারে তিনি অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। কবিতা, গান, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও গল্পসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর বিচরণ ছিল সমান স্বতঃস্ফূর্ত।”
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক (গ্রেড-১) মো. লতিফুল ইসলাম শিবলী। তিনি বলেন, “বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব ক্ষেত্রেই নজরুলের পদচারণা রয়েছে। তিনি সাম্য, মুক্তি ও মানবতার গান গেয়েছেন। ১৯২২ সালে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি শুধু বাংলা সাহিত্যেই নয়, বিশ্বসাহিত্যেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন।”
 

তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্যের কারণে নজরুল তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারেননি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি বাঙালি পল্টনে যোগ দেন। যুদ্ধ শেষে ১৯১৯ সালে পল্টন ভেঙে দেওয়া হলে তিনি কলকাতায় ফিরে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিভা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
মাগুরা জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এবং মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আলফাজ উদ্দিন।
 

এ সময় জাতীয় কবির সাহিত্য, দর্শন ও সাম্যবাদী চেতনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন মাগুরা জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব কিশোর এবং পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল।
মাগুরা জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মাগুরা-২ আসনের অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে শালিখা উপজেলায় ৫০ জনকে পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মাগুরা দক্ষিণ ইউনিটের ২০ জনকে দশ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়। শালিখার আঞ্চলিক গানের স্রষ্টা ও শিল্পী অনিল হাজারিকাকে তিন লাখ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী।
আগামীকাল মহম্মদপুর উপজেলায় আরও ৪২ জন অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তির মাঝে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়।
 

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা নজরুলসংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

মো: সাজ্জাদ হোসেন, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি