নওগাঁর পোরশা উপজেলায় উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের ২০২৬ সালের পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার মাত্র ১৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। উপজেলার চারটি কলেজে মোট ৩২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৬৩ জন। কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। এ ফলাফল উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষার মান ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, পোরশা উপজেলায় এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি (বিএম) বিভাগে মোট ৫৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২০৫ জন। তিনটি বিভাগ মিলিয়ে সামগ্রিক পাসের হার প্রায় ৩৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল:
এইচএসসি পরীক্ষায় ৩২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬৩ জন। পাসের হার ১৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ নেই।
আলিম পরীক্ষায় ১০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৫২ জন। পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ বিভাগেও জিপিএ-৫ অর্জনকারী নেই।
অন্যদিকে কারিগরি (বিএম) বিভাগে ১১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৯০ জন। পাসের হার ৭৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৫ জন।
কলেজভিত্তিক ফলাফল:
উপজেলার সাধারণ কলেজগুলোর ফলাফলে দেখা গেছে, পোরশা সরকারি ডিগ্রি কলেজে ৭৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৮ জন। পাসের হার ২৪ শতাংশ।
গাঙ্গুরিয়া ডিগ্রি কলেজে ১৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ২১ জন। পাসের হার ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা সাধারণ কলেজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম।
নিতপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩০ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১১ জন। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
ঘাটনগর পাহিড়াপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৩ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।
মাদ্রাসাভিত্তিক ফলাফল:
পলাশবাড়ী চাঁচাইবাড়ী কামিল মাদ্রাসায় ৩৬ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২২ জন। পাসের হার ৬১ দশমিক ১১ শতাংশ।
নিতপুর দারুসসুন্নাহ ফাজিল মাদ্রাসায় ২৩ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১৩ জন। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।
বারিন্দা শেখপাড়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ২০ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৬ জন। পাসের হার ৩০ শতাংশ।
নিতপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১১ জন। পাসের হার ৬১ দশমিক ১১ শতাংশ।
অন্যদিকে মেদা হযরত আলিম মাদ্রাসায় ৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।
কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল:
কারিগরি শিক্ষায় তুলনামূলক ভালো ফলাফল করেছে উপজেলার প্রতিষ্ঠানগুলো।
কড়িদহ টেকনিক্যাল কলেজে ৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৭৭ জন। পাসের হার ৮৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানের ১৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
বড়গুন্দুইল টেকনিক্যাল কলেজে ১৯ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১১ জন। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
পোরশা সরকারি কলেজের বিএম শাখায় ৬ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২ জন। পাসের হার ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন, প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ:
সংশ্লিষ্ট ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ এইচএসসি বিভাগে পাসের হার অত্যন্ত কম। বিশেষ করে গাঙ্গুরিয়া ডিগ্রি কলেজের ফলাফল উদ্বেগজনক। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল তুলনামূলক ভালো হওয়ায় এ খাতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা প্রয়োজন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পাঠদানে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদান, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনার মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এমন ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও একটি সতর্কবার্তা। এখনই প্রয়োজন ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ।
পোরশার শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কার্যকর ভূমিকা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।