তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক। শোকের প্রথম দিন ছিল এক দিনের সাধারণ ছুটি। এমন সময় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে মাছ উত্তোলন করে তা গরীব-দুঃখীদের মাঝে বিতরণ না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগাভাগি করার ঘটনায় জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে এসব মাছ উত্তোলন করা হয়। জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) বরাদ্দের অর্থে প্রতিবছর এই পুকুরে মাছ অবমুক্ত করা হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মাছ উত্তোলনের পর তা গরীব, দুঃখী, দুঃস্থ, অসহায় মানুষ ও এতিমখানায় বিতরণের কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, এবার তা অনুসরণ করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রশাসনের কর্মচারী ও আনসার সদস্যদের পাহারায় ভ্যানে করে মাছভর্তি বস্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের সামনে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে মাছ ভাগ করে নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশেই পরিষদের পুকুর থেকে মাছ উত্তোলন করা হয়। পরে এসব মাছ কর্মকর্তা ও অফিস স্টাফদের মধ্যে মোট ৩২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে, সেখানে এমন ‘হৈ-হুল্লোড়’ করে মাছ ধরা এবং তা গরীব-দুঃখীদের বঞ্চিত রেখে স্টাফদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া দুঃখজনক ও বিবেকবর্জিত। এতে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, গত দুই বছর ধরে পুকুরের মাছ তোলা হয়নি। মাছ বড় হয়েছে কি না তা দেখার জন্য কিছু মাছ তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে যখন মাছ উত্তোলন করা হবে, তখন গরীব-দুঃখীদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
