সোমবার, মে ২৫, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাতিয়ায় মৌয়ালরা

মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাতিয়ায় মৌয়ালরা

মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাতিয়ায় মৌয়ালরা


নোয়াখালীর জেলার বিছিন্ন  দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় চলছে প্রাকৃতিক মধু সংগ্রহের মৌসুম। উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, কাজির বাজার বনসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে মৌয়ালরা মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীত মৌসুমে ধানফুল ও বিভিন্ন বুনো ফুলের রস থেকে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে গাছে চাক তৈরি করে, আর সেই মধু আহরণে দিনরাত পরিশ্রম করছেন স্থানীয় মৌয়ালরা।

স্থানীয়ভাবে এই প্রাকৃতিক মধু এখন অর্থনীতির নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে। পুষ্টিগুণ ও স্বাদের কারণে চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

 মৌয়ালরা জানান, একটি গাছে মৌচাক বসার ২০ থেকে ২৫ দিন পর প্রথমবার মধু সংগ্রহ করা যায়, এরপর প্রতি ১৫ থেকে ২৫ দিন পরপর নতুন মধু পাওয়া যায়।

তবে পর্যাপ্ত পোশাক ও সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে মধু সংগ্রহকারীরা ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন। তারা সরকারি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

মৌয়ালরা আরও জানান, মধু সংগ্রহের সময় হাত পরিষ্কার রাখা এবং পানির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হয়, না হলে মধুর গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হাতিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর এই অঞ্চল থেকে প্রাকৃতিক চাক হতে ছয় থেকে আট মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করা হয়। উচ্চ চাহিদার কারণে এসব মধু স্থানীয় বাজারে দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। কৃষি বিভাগ মনে করে, মৌয়ালদের প্রশিক্ষণ ও কৃত্রিম মৌচাষের ব্যবস্থা করা গেলে হাতিয়া অঞ্চল থেকে আরও বেশি পরিমাণ মধু উৎপাদন সম্ভব হবে। নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের বনাঞ্চলে থাকা প্রাকৃতিক মৌচাকগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে এ খাত থেকে সরকারও আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারবে।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি প্রাকৃতিক মধু বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। চাহিদা বেশি থাকায় মৌয়ালরা এখন অতিরিক্ত চাক বসানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন মৌয়ালদের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন প্রাণ সঞ্চার হচ্ছে।


হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  আব্দুল বাছেদ সবুজ   বলেন, হাতিয়ার চরাঞ্চল মধু উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে প্রাকৃতিক বন ও ফুলের প্রাচুর্যের কারণে মানসম্মত মধু পাওয়া যায়। মৌচাষের মাধ্যমে স্থানীয়দের আয়ের সুযোগও বাড়ছে। মৌয়ালদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও কৃত্রিম চাষ পদ্ধতি চালু করা গেলে এ অঞ্চলে মধু উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।